1. babuibasa@gmail.com : editor :
  2. saskotha0@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : এস এম সজল
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

বিধিনিষেধ ঢিলেঢালা পালনে উদ্বিগ্ন পরামর্শক কমিটি ফের সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা।

রিপোর্টারঃ
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৯ মে, ২০২১
  • ৪৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

ঈদের পর যেভাবে তারা ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে, তাতে সপ্তাহখানেক কিংবা সপ্তাহ দুয়েক পর দেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ভারত থেকে আসা বাংলাদেশিদের শরীরে যেভাবে সে দেশের ভাইরাসের ধরন পাওয়া যাচ্ছে তাতেও উদ্বেগ বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার ভারতীয় ধরন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে তা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এমন বাস্তবতায় সংক্রমণ রোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সরকার আরোপিত ঢিলেঢালা বিধিনিষেধে উদ্বেগ প্রকাশ করে নতুন সাতটি সুপারিশ করেছে। সেই সঙ্গে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষা অব্যাহত রাখতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণের ঢেউ চলছে। এর মধ্যেই ঈদ কেন্দ্র করে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ রাজধানী ছেড়েছে। ঈদের ছুটি শেষে এখন আবার তারা ঢাকা ফিরছে। এ যাওয়া ও আসার সময় মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া ঈদ কেন্দ্র করে শপিংমলগুলোয় ভিড় ছিল ক্রেতাদের। একই সময়ে ‘সুপার স্পেডার’ হিসেবে পরিচিত করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন দেশে শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও ভারতফেরত তিনজনের দেহে সে দেশের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একদিন আগেই করোনার ভারতীয় ধরনে আক্রান্ত একজন মারাও গেছেন। তার পরও মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পর্যাপ্ত পূর্বপ্রস্তুতি নেই বলেও ধারণা করছেন অনেকে। তার ওপর এখনো অনেক জেলায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়নি। অন্তত অর্ধেক জেলা হাসপাতালে নেই আইসিইউ সুবিধা। অনেক জেলার হাসপাতালে নামমাত্র আইসিইউ শয্যা থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ভারতীয়অতিসংক্রমণশীল ভাইরাস সারাদেশএছড়িয়ে পড়লে চরমভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে দেশ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, অক্সিজেন সংকট তৈরি হবে। তাই এ জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে সহসাই আমাদের ভুগতে হবে, চরম মূল্য দিতে হবে।

 

এদিকে জাতীয় পরামর্শ কমিটি গতকাল তাদের ৩৪তম সভায় বেশকিছু সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ। একই সঙ্গে কমিটির দুজন সদস্য অধ্যাপক ডা. আজাদ খান ও অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসানকে জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচিত করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কমিটির নতুন সুপারিশে বলা হয়েছে, সরকার আরও এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। যদিও ঈদপূর্ববর্তী যাতায়াত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। ঈদের পরে একইভাবে মানুষ ফিরে এলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়বে। ঈদের পরে কলকারখানা পর্যায়ক্রমে খোলা হলে জনসাধারণকে একযোগে ঢাকায় ফিরতে হবে না। এ ছাড়া সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কঠোর বাস্তবায়নও প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ও বিভিন্ন অংশীজনদের সহযোগিতা এবং কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চত করা প্রয়োজন। সুপারিশে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। ১৪ দিন পর পিসিআর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলেই কেবল তাদের বাইরে বের হওয়ার ছাড়পত্র দিতে হবে।

একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনানুষ্ঠানিক যাতায়াত কঠোরভাবে বন্ধ করা দরকার। ভারতে সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে সীমান্ত চলাচল বন্ধ অব্যাহত রাখতে হবে। হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। কমিটি এসব পদক্ষেপের দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করে। কমিটি মনে করে, অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করে পরনির্ভরতা কমানো প্রয়োজন। সব জেলা হাসপাতালে অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপনে সরকারের সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানানো হয়। এ ছাড়া পরামর্শ দেওয়া হয় অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও সিলিন্ডার পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহের। মারাত্মক রোগীর চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেটর ছাড়াও বাই প্যাপ, সি প্যাপ ও হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত সংযোগ করা প্রয়োজন বলেও মত দেয় কমিটি।

 

জানা গেছে, সভায় বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করা শ্রীলংকা ক্রিটেক দলের সঙ্গে বাংলাদেশের আসন্ন খেলার বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটি অনুশীলন ও খেলা চলাকালে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পরামর্শ দেয়। এ ছাড়া স্বল্পমূল্যে মেডিক্যাল গ্রেড অক্সিজেন সরবরাহের উদ্দেশ্যে বুয়েটের একটি গবেষক দলের কার্যক্রমকে অভিনন্দন জানানো হয়। এ কার্যক্রমে সরকার পৃষ্ঠপোষকতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এটি দেশের জন্য আশাব্যঞ্জক খবর এবং এর সফল বাস্তবায়ন পরনির্ভরশীলতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে কমিটি মনে করে।

 

এতে বলা হয়, বৈশ্বিক সংকট এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা না পাওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দ্বিতীয় ডোজের টিকাপ্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রথম ডোজের ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের ভেতরে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেওয়া যায়। কোনো কোনো দেশ ১৬ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান করছে। এ ব্যাপারে সবাইকে ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক ও সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ও বিকল্প অনুসন্ধান করছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে টিকার পরিস্থিতি ও সরকারের বিকল্প পরিকল্পনা জনগণকে অবহিত করার ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। টিকার জন্য পরনির্ভরতা কমাতে উৎপাদনের জন্য দ্রুত সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলেও কমিটি মনে করে।

 

কমিটির বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতালির করোনা রোগীর পোস্টমর্টেমসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর প্রচার নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের উদ্ধৃতি দিয়েও বিভিন্ন ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় দেখা যায়। কমিটি মনে করে মহামারীকালে এ ধরনের তথ্য জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। এসব জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। জাতীয় কমিটি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরামর্শ প্রদান করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো প্রচারে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

 

 

আপনি সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২১ ব্যতিক্রম নিউজ কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira